বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি মধুসূদন দত্তের লেখা বঙ্গভূমির প্রতি কবিতায় বঙ্গভূমির প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। কবি মধুসূদন ফ্রান্সে থাকাকালে ভারত ভূমির প্রতি আন্তরিক আকর্ষণ অনুভব করেছিলেন। তিনি ইংরেজি সাহিত্যের কবি হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার স্বপ্ন সফল হয়নি। সর্বাধিক জনপ্রিয় হয়েছিলেন বাংলা ভাষায় কাব্য রচনা করে। বাঙালি তাকে আপন করে নিয়েছিলেন। তিনি বাংলা ভাষায় প্রথম সনেট রচনা করেছিলেন, মহাকাব্য রচনা করেছিলেন, অমিত্রাক্ষর ছন্দ সৃষ্টি করেছিলেন। বাংলা ভাষায় তিনি সোনার ফসল ফলিয়ে ছিলেন। তাই বাঙালি তাকে তাদের অন্তরে স্থান দিয়েছিলেন। মধুসূদন বাঙালির এই ভালোবাসার কথা ভুলতে পারেননি। বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় তিনি বাঙালির এই ভালোবাসাকে প্রকাশ করেছেন। বঙ্গভূমি এবং বাঙালির প্রতি তার আন্তরিক আনুগত্য এই কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে। কবিতাটির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা শুনতে হলে বা জানতে হলে এই আর্টিকেলের সঙ্গে যে ভিডিও আছে সেই দুটি দেখুন।
প্রিয় ছাত্র-ছাত্রী, আশা করি সকলে ভালো আছো। এই ভিডিওতে আমি বাংলা ব্যাকরণ সম্পর্কে আলোচনা করব। বাংলা ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করার জন্য বাংলা ব্যাকরণ শিক্ষা আবশ্যিক। আর, বাংলা ব্যাকরণ এর প্রাথমিক অংশ হলো কিভাবে শব্দ গঠন করতে হয় এবং পদ গঠন করতে হয়। বাংলা শব্দ গঠন করার ক্ষেত্রে নির্দেশক এর ভূমিকা আছে। আর কোন শব্দকে পদে পরিণত করার ক্ষেত্রে বিভক্তি এবং অনুসর্গের গুরুত্ব আছে। এই ভিডিওতে আমি বিভক্তি, অনুসর্গ, নির্দেশক সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করব। উপযুক্ত উদাহরণ সহ আমি বিভক্তি, নির্দেশক এবং অনুসর্গ বিষয়টি তোমাদের বুঝিয়ে দেব এবং একই সঙ্গে বিভক্তি ও অনুসর্গ এবং নির্দেশক এর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং পার্থক্য বিষয়ে আলোচনা করব। এই ভিডিওটি স্কিপ না করে শেষ পর্যন্ত দেখো, তাহলে বাংলা শব্দ এবং বাংলা পদ গঠনের কৌশলগুলি সম্পর্কে জানতে পারবে। আলোচনা শুরু করার আগে বলে রাখি, যে সমস্ত দর্শকবৃন্দ এবং ছাত্রবৃন্দ এখনো চ্যানেলটিকে সাবস্ক্রাইব করো নাই, তারা এই চ্যানেলটিকে সাবস্ক্রাইব করে নাও এবং আমার এডুকেশনাল ভিডিওগুলির নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য বেল আইকনটি একটিভ করে রাখ। চলো ভিডিওটি শুরু করা যাক।
অনুসর্গ:
প্রথমে আসি, অনুসর্গের আলোচনায়। বাংলায় কিছু অব্যয় পদ আছে, যেগুলি শব্দের পরে বসে বিভক্তির মতো কাজ করে। এই ধরনের অব্যয়গুলিকে অনুসর্গ বা পরসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
যেমন - দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, বিনা, চেয়ে ইত্যাদি।
অনুসর্গ দুই প্রকার:
1.শব্দজাত অনুসর্গ,
2.ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।
শব্দজাত অনুসর্গ: বাংলায় ব্যবহৃত অধিকাংশ অনুসর্গ শব্দজাত অনুসর্গ।
শব্দজাত অনুসর্গের কয়েকটি ভাগ আছে।
•এর একটি হল, তৎসম শব্দজাত অনুসর্গ। যেমন- অপেক্ষা,জন্য, দ্বারা, নিকট, নিমিত্ত, প্রতি, বিনা, মধ্যে, সঙ্গে।
•তদ্ভব শব্দজাত অনুসর্গ: আগে, কাছে, পানে, বই, সাথে ইত্যাদি।
•বিদেশি শব্দজাত অনুসর্গ: বাদে, বরাবর, বদলে ইত্যাদি।
এই শব্দ যাত অনুসর্গ গুলি ছাড়া, কতকগুলি অসমাপিকা ক্রিয়াপদ আছে যেগুলি বিভিন্ন কারকের অর্থ বোঝাতে বাক্যের মধ্যে ব্যবহার করা হয়।
যেমন: 1.করিয়া, করে।
হাতে করে আমি জিনিসটা আনলাম।
লোহার চেয়ে সোনা দামি।
2. দিয়া, দিয়ে।
ছেলেটি কলম দিয়ে লিখছে
3. ধরিয়া, ধরে।
আমি সারাদিন ধরে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।
4. বলিয়া, বলে।
সে কথা দিয়েছিল বলে এসেছে।
5.লাগিয়া, লেগে।
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধলাম।
6. হইতে, হতে।
গাছ হতে ফল পড়ল।
তাহলে তোমরা দেখলে, অনুসর্গ কাকে বলে, অনুসর্গ কত প্রকার হতে পারে। এখন, অনুসর্গের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করছি:
1.অধিকাংশ সময় অনুসর্গ নাম পদের পরে বসে।
2.তবে কখনো কখনো অনুসর্গ নাম পদের আগে বসতে পারে। যেমন- বিনা মেঘে বজ্রপাত।
3.অনুসর্গ শব্দের অর্থের পরিবর্তন করে না।
4.অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ আছে। তাই বাক্যের মধ্যে অনুসর্গের স্বতন্ত্র প্রয়োগ আছে।
5.অনুসর্গ বিভক্তির মতো কাজ করে।
6. শব্দের পরে শুধু একটা অনুসর্গের ব্যবহার করা যায়।
7. অনুসর্গ অব্যয় জাতীয় এবং ক্রিয়াজাত দুই প্রকার হতে পারে।
এই শব্দজাত অনুসর্গগুলি ছাড়া, কতকগুলি অসমাপিকা ক্রিয়াপদ আছে যেগুলি বিভিন্ন কারকের অর্থ বোঝাতে অনুসর্গের মতো ব্যবহার করা হয়।
যেমন- করিয়া, করে।
হাতে করে আমি জিনিসটা আনলাম।
চেয়ে: লোহার চেয়ে সোনা দামি।
দিয়া, দিয়ে: ছেলেটি কলম দিয়ে লিখছে।
ধরিয়া, ধরে: আমি সারাদিন ধরে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।
বলিয়া, বলে: সে কথা দিয়েছিল বলে এসেছে।
লাগিয়া: সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধলাম।
বিভক্তি:
অনুসর্গের পরে এখন, আমি বিভক্তির আলোচনা করছি। বাংলা পদ গঠন করার সময় এবং কারক নির্ণয় করার সময় বিভক্তির আলোচনা আবশ্যিকভাবে এসে পড়ে।
বিভক্তি হলো ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ, যা শব্দের পরে যুক্ত হয়ে শব্দকে পদে পরিণত করে এবং বাক্যে পদটির কারক চিনিয়ে দেয়। বিভক্তি শব্দটির সাধারণ অর্থ বিভাজন করা। বাংলা ভাষায় কারক বিভক্তি আছে মাত্র পাঁচটি। যেমন- শূন্য, এ, কে, রে, এবং তে। বাংলায় কোনো কারকের জন্য নির্দিষ্ট বিভক্তি নেই। শূন্য বিভক্তি এবং এ বিভক্তি বাংলায় প্রায় সকল কারকে প্রয়োগ করা যায়। যেসব বিভক্তি একাধিক কারকে ব্যবহার করা হয়, তাদের তির্যক বিভক্তি বলা হয়। যেমন এ, তে, কে ইত্যাদি। বিভক্তি দেখে বাংলায় কারক নির্ণয় করা জটিল, অর্থ বুঝে কারক নির্ণয় করতে হয়।
শব্দ বিভক্তি ছাড়া, আছে ধাতু বিভক্তিবিভক্তি। পুরুষভেদে যেসব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি শব্দ ও ধাতুর পরে যুক্ত হয়ে ক্রিয়া পদ গঠন করে, সেই বর্ণ বা বর্ণসমষ্টিকে ধাতু বিভক্তি বা ক্রিয়াবিভক্তি বলা হয়। যেমন “কর” ধাতুর সাথে ই বিভক্তি যোগ করলে হয় – করি। আবার, “কর” ধাতুর সঙ্গে এ বিভক্তি যোগ করলে হয় করে। এ,ই- এগুলি হল ধাতু বিভক্তি।
অনুসর্গ এবং বিভক্তির আলোচনার পরে এখন আমি অনুসর্গ এবং বিভক্তির মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করছি।
1. শব্দ বিভক্তির নিজস্ব কোন অর্থ নেই, অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ আছে।
2. শব্দ বিভক্তির স্বতন্ত্র প্রয়োগ নেই, কিন্তু অনুসর্গের স্বতন্ত্র প্রয়োগ আছে।
3. শব্দ বিভক্তি শব্দের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়, অনুসর্গ পৃথকভাবে বসে।
4. শব্দ বিভক্তি সব সময় শব্দের শেষে বসে, অনুসর্গ কখনো কখনো শব্দের পূর্বে বসতে পারে। যেমন - বিনা মেঘে বজ্রপাত. এখানে বিনা এই অনুসর্গটি মেঘ এই বিশেষ্য পদের পূর্বে বসেছে।
নির্দেশক:
এমন অনেক শব্দ বা শব্দাংশ আছে যেগুলি বিশেষ্য, বিশেষণ ও সংখ্যাবাচক বিশেষণ এর পরে যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণকে বিশেষভাবে নির্দেশ করে, তাদের নির্দেশক বলে। যেমন – টি, টা খানি, খানা, টুকু, টুকুন, গাছ, গাছা, গাছি ইত্যাদি।
বাংলা বাক্যে টি এবং টা একই অর্থ বহন করে। যেমন- একটা কলম কিনেছি। একটি কলম কিনেছি।
পরিমাণে অল্প আদর বুঝাতে টুকু এবং টুকুন এই দুটি নির্দেশক ব্যবহার করি। যেমন- এই টাকাটুকু সম্বল করে এতোটুকুন ছেলে বাজারে এসেছে।
খান, খানি, খানা- এই তিনটি নির্দেশক আদর, অবজ্ঞা, তুচ্ছতা ইত্যাদি বোঝাতে ব্যবহার করি। যেমন - বাড়িখানা খুব সুন্দর। একটুখানি জায়গায় এত বড় বাড়ি করেছ!
নির্দেশকের সঙ্গে বিভক্তির পার্থক্য আছে:
1. বিভক্তি কারক নির্দেশ করতে পারে, নির্দেশক কারক নির্দেশ করতে পারে না।
2. কোন শব্দের সঙ্গে বিভক্তি যোগ করলে পদ তৈরি হয়, শব্দের সঙ্গে নির্দেশক যোগ করলে পদ তৈরি হয় না।
3. নির্দেশক কোন শব্দের বচন নির্দেশ করে, বিভক্তি বচন নির্দেশ করেনা।
পার্থক্য থাকলেও নির্দেশকের সঙ্গে বিভক্তির মিল আছে।
1. নির্দেশক এবং বিভক্তি উভয়ের কোন অর্থ নেই।
2. নির্দেশক এবং বিভক্তি উভয়ই শব্দের পরে বসে।
নির্দেশকের সঙ্গে অনুসর্গের পার্থক্য আছে :
1. অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ আছে, নির্দেশক এর নিজস্ব অর্থ নেই।
2. অনুসর্গ শব্দের মধ্যে স্বতন্ত্রভাবে বসতে পারে, নির্দেশক শব্দের মধ্যে পৃথকভাবে বসতে পারে না।
3. অনুসর্গ হলো অব্যয় পদ, নির্দেশক হলো অর্থহীন ধ্বনিগুচ্ছ বা ধ্বনি।
19 শতকের কৃষক বিদ্রোহ পরাধীন ভারতের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ইংরেজদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে বাংলার কৃষকরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে। সন্ন্যাসী বিদ্রোহ হল বাংলার প্রথম কৃষক বিদ্রোহ। এরপর চোয়াড় বিদ্রোহ, পাইক বিদ্রোহ, পাগলপন্থী বিদ্রোহ, ময়মনসিংহ জেলার কৃষক বিদ্রোহ, নীল বিদ্রোহ, ওয়াহাবি আন্দোলন প্রভৃতি বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। পরাধীন ভারতের ইতিহাসে কৃষক বিদ্রোহ জাতীয়তাবাদের জন্ম দেয়। ইংরেজ সরকার কর্তৃক নির্মমভাবে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অত্যাচার করা হয়। তবুও কৃষক বিদ্রোহ থেমে যায় নি।
শঙ্খ ঘোষ "আয় আরো বেড়ে বেড়ে থাকি" কবিতায় পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। কবিতাটির উৎস " জলই পাষাণ হয়ে আছে " কাব্য। কবিতাটি দশম শ্রেণীতে পাঠ্য। পৃথিবী এখন যুদ্ধ ও হিংসার পীঠস্থান। কীভাবে পৃথিবীর বুকে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব তা এই কবিতায় সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আরও জানতে এখানে ক্লিক করুন।
কাজী নজরুল ইসলাম ‘প্রলয়োল্লাস’কবিতায় পরাধীনতারজ্বালা মোচনের জন্য মহাকালের আগমনের বন্দনা করেছেন।মহাকাল সর্বনাশী ক্ষমতার দ্বারা সমাজ থেকে অসুর নিধন করবেন ।এই কবিতায় বিপ্লব ওমহাকাল একাকার হয়ে গেছে ।
রনোন্মত্ত মহাকাল প্রলয়ের নেশায় নৃত্য করছেন ।তিনি ধমক এনে সিন্ধুপারের আগল ভেঙে ফেলেছেন ।চণ্ডরূপেমৃত্যু গ্রহণ অন্ধকূপে মশাল জ্বেলে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে এগিয়ে আসছেন ।তাঁর কেশের রং ঝামরবর্ণ । কেশের ঝাপটায় যেন গগন কেঁপে ওঠে ।জ্বালামুখী সর্বনাশী ধুমকেতু এই প্রলয়ের দেবতাকে স্বাগত জানাচ্ছে ।প্রলয়রূপীমহাকালের কোলে রক্তমাখা কৃপাণঝুলছে ।তাঁর অট্টহাসিতে ভয়ে পৃথিবী স্তব্ধ হয়ে আছে ।
দ্বাদশ রবির তেজ ওজ্বালা যেন তাঁর নয়নমণিতে শোভা পাচ্ছে ।তাঁর পিঙ্গল জটাজালে দিগন্তরের কাঁদন লুটিয়ে পড়ছে । চোখের জলে সাত সমুদ্রের বিশালতা । বিশ্বমায়ের আসন তাঁর বাহুর উপর অবস্থান করছে ।মাভৈঃমন্ত্রধ্বনিত হচ্ছে পৃথিবীজুড়ে ।জ্বরায় মরা মুমূর্ষুদেরনতুন করে বাঁচতে শেখাবেন প্রলয়ংকর ।রুদ্রমূর্তিতেপ্রলয়ের মত্ততায় অন্ধকার দূর করে পরাধীন ভারতবর্ষের জন্য শান্তি ও সুখ নিয়ে আসবেন ।
মহাকালের সারথির রক্ত-তড়িৎ-চাবুকের আঘাতে ঘোড়া কেঁদে উঠছে । তার কান্নার ধ্বনি আকাশের বজ্র ও ঝড়-তুফানের সাথে তুলনীয় ।মহাকালের রথের ঘোড়ার ক্ষুরেরদাপটে নীল আকাশে উল্কা খসে পড়ছে । অন্ধ কারাগারের বন্ধ কুপে আলো জেগে উঠেছে।কবি রথের চাকার ঘর্ঘর ধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন ।জীবনহারা অসুন্দরকে ছেদন করে নতুন সৃজন করতে তাঁর শুভ আগমন ।ভাঙ্গা-গড়া তাঁর নিত্যলীলা ।তাঁর ভয়ঙ্কর রূপের মধ্যে চির সৌন্দর্য বিরাজ করছে ।কবি এভাবে ভয়ংকরের আসার বর্ণনা করেছেন ।
কাজী নজরুল ইসলামের লেখা‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি স্বাধীনতা প্রাপ্তির জন্য বিপ্লবের ভাবনায় পূর্ণ ।কবিতাটিতে মুক্তিযুদ্ধের সৈনিকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন কবি ।পরাধীনতার বন্ধন মোচনের জন্য তিনি ভারতমাতার বীরছেলেদের উৎসাহিত করেছেন ।কঠোর সংগ্রামের মহাব্রত করতে হবে, তবে স্বাধীনতার সূর্য ভারতের আকাশে উদিত হবে ।
নজরুলস্বাধীনতার দিনে পৌঁছানোর জন্য বিপ্লবের প্রতি আস্থা রেখেছেন ।বিপ্লবের রক্তস্নাত পথ দিয়ে জাতির মুক্তি ঘটবে ।এই কবিতায় কবির ইতিবাচক মনোভাবটি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে ।তিনি বিপ্লবের বাণীবাহি বিপ্লবীদের মহাকালের সাথে তুলনা করেছেন ।মহাকালের প্রলয়নাচনে ধ্বংসের স্পষ্ট বার্তা কবি শুনতে পেয়েছেন ।কালবৈশাখীর ঝড়ে পরাধীনতার জীর্ণবাঁধনউড়ে যাবে ।সিন্ধুপারের সিংহদ্বারের আগল ভেঙে পড়েছে ।মহাকাল বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে অন্ধকূপের আঁধার ঘোচাতে আসছেন ।রক্তমাখা কৃপাণ ঝুলছে তাঁর কোলে ।তাঁর চোখে যেন সূর্যের মতো তেজ বিকিরণ হচ্ছে ।মুমূর্ষুদের সঞ্জীবনী সুধা দিতে মহাকালের এই প্রয়াস ব্যর্থ হবে না।
মহাকাল যেন কবির স্বপ্নের নায়ক যিনি ভারতমাতাকে হৃত গৌরব ফিরিয়ে দেবেন ।ইংরেজদের বিরুদ্ধে সর্বান্তকরণ সংগ্রাম চান তিনি । তাই বিপ্লবের ও বিপ্লবীদের জয়ধ্বনিতে মুখর হয়েছেন কবি ।বিপ্লবের বাণীকে তিনি সমাজে সবার মনে ছড়িয়ে দিতে চান ।সকলে মিলে স্বাধীনতার জন্য মরণপণ সংগ্রাম করে ভারতের বুকে স্বাধীন যুগ স্থাপন করতেতিনি প্রয়াসী হয়েছেন ।আর সকলকে বিপ্লবের মন্ত্রে দীক্ষিত করতে চেয়েছেন ।কবি নজরুলের বিদ্রোহী সত্তা এখানে সুন্দরভাবে প্রকাশ পেয়েছে ।একইসঙ্গে স্বাধীনতার স্বপ্ন ঘনিয়ে এসেছে তাঁর দুচোখে ।
প্রশ্নঃ“বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ঙ্কর।”- ভয়ঙ্কর কে ? তার আগমনের কারণ কি ?
নজরুল ইসলাম তাঁর লেখা ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় পরাধীনতার অন্ধকারের অবসানে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন দেখেছেন । কিন্তু শান্তিরসরল পথে স্বাধীনতা আসবেনা । মহাপ্রলয়ের রণ-ভেরী বেজে উঠেছে, মহাকাল প্রলয় নেশায় মত্ত হয়ে যেন অসুররূপী ইংরেজ শক্তিকে পরাভূত করতে আসছেন । মুক্তি যুগের অগ্রদূত ভারত মাতার বীর বিপ্লবী সন্তানদের শক্তিকে কবি বৃহৎপটভূমিকায় এঁকেছেন । মহাকালের রূপ ধরে বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে তাঁরা স্বাধীনতার পথের যাত্রী । তাঁরাদুরন্ত কালবৈশাখীসম । দেশ উদ্ধারের স্বপ্নে বিভোর হয়ে তাঁরা অতি ভয়ঙ্কর, প্রলয় পাগল ।
‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় নজরুল নবীনের জয়গান গেয়েছেন । ভারতবাসীর পরাধীনতার গ্লানি মোচনের জন্য নবীন বিপ্লবীগণ মহাপ্রলয়ে মত । প্রলয়ের নেশায় নৃত্য-পাগল মহাকালের রূপ ধরে তাঁরা অসুররূপী ইংরেজদের নিধনে বদ্ধপরিকর ।বিপ্লবের আবেগ যেন কালবোশেখীর আগমন সূচিত করেছে । ভারতের পরাধীনতার শৃংখল ও দীনতা কালবৈশাখীর ঝড়ে উড়ে যাবে । ভারত মাতার বীর সন্তানদের আত্মত্যাগের ও বিপ্লবের নিশান উড়ছে কালবৈশাখী দুর্দান্ত ঝড়ে । এভাবে বিপ্লবীদের প্রতি অকুণ্ঠ হৃদয়ে সমর্থন জানিয়েছেন কবি ।
প্রশ্নঃ“তোরা সব জয়ধ্বনি কর”।- কবির এরূপ নির্দেশের কারণ কি ?
কবি নজরুল ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় বিপ্লবের আবেগ ও বিপ্লবীদের জয়গান গেয়েছেন । কবি স্বপ্ন দেখেছেন, বিপ্লবেরপূর্ণ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ভারতের স্বাধীনতার সূর্য উদিত হবে । তবে এই বিপ্লব কোন একক মানুষের কীর্তি নয়, সকল ভারতবাসী স্বাধীনতারস্পৃহার প্রতি উদ্বুদ্ধ হলে, হৃদয়ের মধ্যে বিপ্লবের প্রদীপ জ্বালাতে পারলে, তবে পরাধীনতা মোচন সম্ভব হবে । তাই কবি সকলকে বারবার জয়ধ্বনি দিতে বলেছেন, যাতে সকলেই বিপ্লবের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে । সকল ভারতবাসীকে স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রাঙ্গণে দেখতে চেয়েছেন তিনি ।
প্রশ্নঃ“ওরে ওই স্তব্ধ চরাচর”।- চরাচর স্তব্ধ কেন ?
কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি একটি দেশপ্রেমের কবিতা । এই কবিতায় স্বাধীনতার মুক্তি পিয়াসী বিপ্লবীদের বীরত্বকে মহাকালের প্রলয় নাচনের রূপকে বর্ণনা করেছেন । ভয়ঙ্কর মহাকাল যেন প্রলয়ের নেশায় মত্ত । তাঁর কোলে আছে রক্তমাখা তরবারি । তাঁর কেশের ঝাপটায়গগন দুলে ওঠে, আর জ্বালামুখী ধুমকেতু তার পুচ্ছ নাচিয়ে মহাকালের বা মুক্তিদাতার আগমন সূচিত করেছে । প্রলয়ের কালে মহাকালরূপী বিপ্লবীদের অট্টরোলে চরাচর স্তব্ধ হয়ে আছে । চরাচর যেন বিপ্লবের দুর্দম শক্তিকে নতমুখে স্বাগত জানাচ্ছে ।
প্রশ্নঃ“আসবে ঊষা অরুণ হেসে”।- তাৎপর্য লেখ ।
‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কাজী নজরুল পরাধীনতার অন্ধকার মোচনের স্বপ্ন দেখেছেন ।বিপ্লব যেন মহাকালের রূপ ধরে ইংরেজ নিধন করতে আসছেন । মহাপ্রলয়ের মত্ততায়চরাচর স্তব্ধ হয়ে আছে । মাভৈঃ ধ্বনিতে স্বাধীনতার অনুরণন শুনতে পেয়েছেন কবি । ভারতমাতার দুঃখ মোচন করতে তার বীর সন্তানরা মহাকালের রূপ ধরে মহাপ্রলয়ে মত্ত । জরায় মরা ভারতবাসীর পরাধীনতার শৃংখল ভাঙতে তাঁরা বদ্ধপরিকর । বিপ্লবীদের এই সংগ্রাম ব্যর্থ হবে না । তাঁদের রক্তস্নাত বিপ্লবের পথ দিয়ে একদিন স্বাধীনতা আসবে । বর্তমানের পরাধীনতার গ্লানিময় মহানিশার অবসান হবে এবং স্বাধীনতার নতুন সূর্য উদিত হবে- এমনই প্রত্যাশা করেন কবি নজরুল । মহাদেবের কপালে পিঙ্গল চাঁদ সেদিন স্বাধীনতাসুখের পূর্ণিমায় আমাদের ঘর ভরিয়ে দেবে ।
নজরুল ইসলামের লেখা ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি স্বাধীনতা সংগ্রামের ভাবনায় পূর্ণ । এই কবিতায় বিপ্লবের বার্তাবহ বিপ্লবীদেরমহাকালের সাথেতুলনা করা হয়েছে । বিপ্লবীদের স্বরূপ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তাদের বীরত্বকে আকাশের সূর্যের সাথে তুলনা করেছেন । আকাশের বুকে দীপ্তমান সূর্যের মতো বিপ্লবীরা আপন শক্তিতেও তেজে উজ্জ্বল । তাদের নয়ন থেকে অগ্নি বর্ষিত হচ্ছে । সেই আগুনে পরাধীনতার অপমান জ্বলে যাবে। এভাবে বিপ্লবীদের জয়গান করেছেন । তাদের ঐকান্তিক আত্মত্যাগের মাধ্যমে নবযুগের সূচনা ঘটতে চলেছে ।
প্রশ্নঃ‘মাভৈঃ’ শব্দের অর্থ কি ?কবি কেন এই শব্দটি উল্লেখ করেছেন ?
‘মাভৈঃ’ শব্দের অর্থ নির্ভয় বা ভয় করোনা ।
কবি নজরুল স্বাধীনতা সংগ্রামেরমহাক্ষেত্রে অসুররূপী ইংরেজ নিধনের জন্য বিপ্লবীদের মরণপণ সংগ্রাম উদ্বোধন করেছেন‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় । কবি ভয় না করার নির্দেশ দিয়েছেন ।নির্ভীকচিত্তে প্রলয়সৃষ্টি করতে হবে ।ভয়ানক মহাকালের প্রলয়নৃত্যের কারণেচরাচরস্তব্ধ ।পরাধীনতার বন্ধন মোচনের দিন সমাগত ।প্রলয়েরশেষে জয়টিকা বিপ্লবীদের কপালে শোভা পাবে ।মরণকে জয় করে এই বিপ্লবীরা হয়ে উঠবে মরণজয়ী ।সেদিন পূর্ণিমায়ভাসবেভারতবর্ষ ।অনাগতস্বাধীন ভারতের স্বপ্নকে সার্থক করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের সৈনিকদের ভয়হীন হতে হবে ।
প্রশ্নঃ“ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর”- তাৎপর্য লেখ ।
‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি নজরুল মহাকালের রুদ্ররূপের বন্দনা গান করেছেন ।মহাকাল অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছেন ।তাঁর আগমনের ধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন কবি ।রূপকের আশ্রয়ে কবিবিপ্লবকে স্বাগত জানিয়েছেন ।ভারত মায়ের দামাল ছেলেরা ইংরেজ রূপী অসুরদের নিধন করতে মহাকালের রূপ ধারণ করেছেন ।কিন্তু, এই ধ্বংস দেখে পরাধীন ভারতবাসীর ভয় পাবার কারণ নেই ।ভারতবাসীকে স্বাধীনতা দেবার জন্য এই প্রলয় আসছে ।সমাজের বুকে নতুন দিন আসছে, যা হবে স্বাধীনতার সুখে পূর্ণ ।জীবনহারা অসুন্দরকে নিধন করার জন্য মহাকালের আগমন হচ্ছে ।জরায় মরা ভারতবাসীর আনন্দের দিন এটি ।
প্রশ্নঃ“রনিয়েওঠে ঘোড়ার কাঁদন বজ্রগানে ঝড়-তুফানে”। প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা কর ।
‘প্রলয়োল্লাস’কবিতায় কবি নজরুল স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন দেখেছেন ।স্বাধীনতা-উত্তরকালে চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় ভারতবাসীর ঘর আনন্দে ভরে উঠবে ।কিন্তু, স্বাধীনতা শান্তিরমসৃণপথে আসবে না ।মহাপ্রলয়ের মহাপ্রান্তরে আত্মত্যাগ ও বিপ্লবের হাত ধরে আসবে স্বাধীনতা ।সমাজের বুকে মহাকালের প্রলয়নৃত্যঘটতে চলেছে । মহাকালের সারথি স্বাধীনতার কালে অতি দ্রুত পৌঁছানোর জন্য রক্ততড়িৎ চাবুকদিয়ে সময় রূপঘোড়াকে আঘাত করছে ।আর চাবুকের আঘাতে মহাকালের রথের ঘোড়া যেন কেঁদেউঠছে যা বজ্রগান, ঝড়-তুফানের সাথে তুলনা করেছেন কবি ।তার খুরের আঘাতে উল্কা খসে পড়ছে ।এভাবে পরাধীনতারপাষাণ ভেদ করে একদিন স্বাধীনতার আগমন ঘটবে ।